নিজস্ব প্রতিবেদক | বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | প্রিন্ট | 629 বার পঠিত
১৯৬২ সালের ১৭ই সেপ্টেম্বর ছিল বাংলাদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ইতিহাসের এক গৌরবময় দিন, যা শিক্ষা দিবস হিসেবে পরিচিত. এই দিনে পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর চাপিয়ে দেওয়া গণবিরোধী ও প্রতিক্রিয়াশীল শরীফ কমিশন শিক্ষা রিপোর্ট বাতিল করার দাবিতে ছাত্র-জনতা ব্যাপক আন্দোলন করে, যার ফলে পুলিশের গুলিতে ওয়াজিউল্লাহ, গোলাম মোস্তফা ও বাবুলসহ অনেকে শহীদ হন. এই আত্মত্যাগের বিনিময়ে ছাত্র স্বার্থবিরোধী শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট স্থগিত হয়, যা শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী সাফল্য এনে দেয়.।
শিক্ষা কোনো দলীয়, গোষ্ঠীগত, আঞ্চলিক বা সাম্প্রদায়িক বিষয় নয়। শিক্ষা সমগ্র জাতির ভবিষ্যৎ এবং সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারের বিষয়। আমাদের শিক্ষার জন্য ঐতিহাসিক আন্দোলনের ৬২তম বার্ষিকীতে শিক্ষক, ছাত্র, শিক্ষাবিদ, তথা শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সকল মহলকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা ও সালাম। জাতীয় শিক্ষা দিবসে আমাদের লক্ষ্য অর্জনের সংগ্রামে ১৯৬২ সালের শহীদদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করি।
১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই আন্দোলন নিয়ে কবিতা রচনা অনেক সাহিত্যিকের মাধ্যমেই হয়েছে। তবে, এই আন্দোলন নিয়ে লেখা যে একটি বিখ্যাত কবিতা হল “জাগো, জাগো, বাঙালি”। কবিতাটি কবি আহসান হাবীব রচনা করেছেন।
“জাগো, জাগো, বাঙালি”
জাগো, জাগো, বাঙালি, জাগো। জেগে আজই অধিকার নাও, নয়তো অবহেলিত জীবন আর কত কাল যাবে হায়!
তোমার চেতনার অগ্নিবীণা তোমারই হাতে বাজুক, বাজুক, শোষিতের অন্তরের বেদনা গর্জন হয়ে উঠুক।
এ শিক্ষার আলোর পথ তোমার জন্যই খুলেছে আজ, তুমি এগিয়ে চল, অবিরত তোমার শক্তি, তোমার প্রাণ।
অন্ধকার কাটিয়ে আলোতে যাও, নিজের শিক্ষা, নিজের ভাষা, নিজের দেশ, নিজের সংস্কৃতি আপনার করে নাও।
তোমার ত্যাগ, তোমার সংগ্রাম বাঙালির নতুন ইতিহাস, তুমি আজ জাগো, জাগো, তোমার জয়ধ্বনি হোক উচ্ছ্বাস।
আহসান হাবীবের এই কবিতাটি ১৯৬২ সালের শিক্ষা আন্দোলনের উত্তাল সময়ে রচিত হয়েছিল এবং এই আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে বাঙালি জাতির জাগরণের প্রতীক হয়ে আছে।
১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ছাত্র ইউনিয়নের নেতৃত্বাধীন ‘অল পার্টি স্টুডেন্ট অ্যাকশন কমিটি’(সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ) বৈষম্যহীন শিক্ষানীতি প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশব্যাপী হরতাল কর্মসূচির ডাক দেয়। সকাল দশটা। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে হাজার লোকের ঢল। সমাবেশ শেষে বিক্ষোভ মিছিল। ছাত্র-জনতার আন্দোলনকে দমাতে পাকিস্তানি সামরিক জান্তা লেলিয়ে দেয় পুলিশ বাহিনী। বিক্ষোভ মিছিলটি যখন আবদুল গনি রোডে তখন অতর্কিতে পেছন থেকে হামলে পড়ে পুলিশ। লাঠিচার্জ, কাঁদুনে গ্যাস- অবশেষে গুলি। আহতের আর্তনাদে যেন নরকপুরিতে পরিণত হয় রাজপথ। পাকিস্তান সরকারের গণবিরোধী, শিক্ষা সংকোচনমূলক শিক্ষানীতি চাপিয়ে দেওয়ার প্রতিবাদে এবং একটি গণমুখী শিক্ষানীতি প্রবর্তনের দাবিতে ১৯৬২ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ছাত্র-জনতার ব্যাপক গণআন্দোলনের রক্তাক্ত স্মৃতিবিজড়িত দিন “জাতীয় শিক্ষা দিবস।”
ছাত্র-জনতার তাজা রক্তের বিনিময়ে ছাত্র স্বার্থবিরোধী শিক্ষা কমিশনের রিপোর্ট স্থগিত হতে বাধ্য হয়.
এই দিনটি বাংলাদেশের শিক্ষা দিবস হিসেবে পালিত হয়, যা শিক্ষার মুক্তি ওই গণতন্ত্রের অভিযাত্রায় এক মাইলফলক.এই আন্দোলন সকলের জন্য শিক্ষার অধিকার ও সুযোগ প্রতিষ্ঠা এবং একটি গণমুখী শিক্ষাব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যে এক যুগান্তকারী সাফল্য এনে দেয়।
লেখক : সভাপতি ফ্যাসিবাদ প্রতিরোধ আন্দোলন | প্রকাশক বাংলাদেশ জ্ঞান সৃজনশীল প্রকাশনা |
Posted ১০:৫৮ পূর্বাহ্ণ | বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫
banglapostbd.news | Rubel Mia
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিধি মোতাবেক নিবন্ধনের জন্য আবেদিত
৭৮/৩ কাকরাইল, ভিআইপি রোড, ঢাকা-১০০০।